প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গণমাধ্যমের খণ্ডিত উপস্থাপনায় দেশবাসী ও নেতাকর্মীদের হতাশ বা বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন।
পোস্টে জামায়াত আমির দাবি করেন, নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের প্রাপ্ত ভোটের পরিসংখ্যান অত্যন্ত শক্তিশালী। তিনি উল্লেখ করেন, "প্রদত্ত প্রায় ৭ কোটি ভোটের মধ্যে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ নাগরিক আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন, যা একটি বিশাল ও তাৎপর্যপূর্ণ জনরায়।"
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে দেশের সংসদীয় ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ডা. শফিকুর রহমান এই অর্জনকে ‘ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রার শুরু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ ভারতে মুসলিম লীগের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তা সময়ের পরিক্রমায় ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আজ ২০২৬ সালে এক নতুন রূপ পরিগ্রহ করেছে।
বিশেষ করে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মাত্র ২টি আসন পাওয়া একটি দল আজ কোটি কোটি মানুষের সমর্থন পেয়ে প্রধান বিরোধী শক্তির মর্যাদা পাওয়াকে বিশ্লেষকরা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। বক্তারা বিভিন্ন গোলটেবিল বৈঠকে বলছেন, "সংস্কার, জবাবদিহিতা ও নীতিভিত্তিক রাজনীতির পক্ষে দেশের অর্ধেক ভোটার যে রায় দিয়েছেন, তা অবহেলার সুযোগ নেই।"
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর পোস্টে দলীয় নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিপক্বতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আসুন, সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে আমরা গঠনমূলক ভূমিকা পালন করি। পরবর্তী নির্বাচনে আরও ব্যাপক আস্থা অর্জনের জন্য এখন থেকেই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।" তিনি বিশ্বাস করেন, ত্যাগ ও পরিশ্রমের ফলে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
খুলনা ও চন্দনাইশসহ সারা দেশে যখন জয়-পরাজয়ের আনন্দ ও বিষাদ বিরাজ করছে, ঠিক তখনই ডা. শফিকুর রহমানের এই 'পজিটিভ' বার্তা নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করেছে। রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করছেন, ২০২৬ সালের এই সংসদ হবে প্রকৃত অর্থেই কার্যকর, যেখানে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে তীব্র বিতর্ক ও গঠনমূলক আলোচনা দেখা যাবে।
সূত্র: ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি), বাসস (BSS) এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণী প্রতিবেদন ২০২৬।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |